প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে জেনারেল শিক্ষার সাথে ৭০ জন হাফেজে কুরআনের অনন্য গৌরব: ডেমরায় ঐতিহাসিক পাগড়ী প্রদান অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পবিত্র কুরআনুল কারীমের নূর ও আধুনিক শিক্ষার আলোর এক অপূর্ব সমন্বয়ে রাজধানী ঢাকার ডেমরার মধুবাগ পাড়াডগার গত কাল রাত দশটায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ। ‘মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রা.)’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণীর মাঝে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কুরআনে হাফেজ হওয়া ৭০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ী পরিয়ে দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই ইসলামি মহাসম্মেলনে প্রায় ১০ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ, অভিভাবক ও সুধীজন অংশ নেন।

ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার এক যুগান্তকারী মেলবন্ধন:
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই “ধর্মীয় ও জেনারেল শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতাসম্পন্ন সু-নাগরিক তৈরি” স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রা.)। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১১টি শাখায় আড়াই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কওমী ও জেনারেল শিক্ষার এই সুসমন্বয় দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই ঐকান্তিক সাধনা ডেমরাবাসীর জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয় হয়ে উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, হিফজ শিক্ষার সঙ্গে জেনারেল শিক্ষার সমন্বয় তারাই দেশে প্রথম শুরু করেছে। প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণির মধ্যে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী হাফেজ হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কওমী ও ন্যাশনাল কারিকুলামের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায়ও তাদের শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকবার মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের নিবন্ধনপ্রাপ্ত এই জেনারেল শাখার আরবি শাখা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অনুমোদনপ্রাপ্ত।

অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্বে কুরআনের হাফেজ কোমলমতি শিশুদের মাথায় সম্মানের পাগড়ী পরিধান করান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি মুহিববুল্লাহীল বাকি। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার এই সমন্বিত উদ্যোগের উচ্চ প্রশংসা করেন এবং হাফেজে কুরআন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

বেশ কয়েকজন অভিভাবক প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা মাদরাসার শিক্ষার মান ও উন্নত পরিবেশের প্রশংসা করেন। আধুনিক ও ইসলামি কারিকুলামের সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ায় তাঁরা একে একটি ব্যতিক্রমধর্মী মাদরাসা হিসেবে উল্লেখ করেন। শিক্ষকদের ভালো আচরণের কথাও জানান তাঁরা। সব মিলিয়ে অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি সকাল ১০ টায় শুরু হয় কৃত্রিমভাবে তৈরী হজ্জ কার্যক্রম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। সারা দিন প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাষার অসাধারণ পরিবেশনা। রাত দশটায় দেয়া হয় পাগড়ী। সব শেষ রাত ১২ টায় বরকতময় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ডেমরার শিক্ষাঙ্গনে এক আধ্যাত্মিক ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *