প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও শ্রমবাজার অনুসন্ধানে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার অনুসন্ধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করতে ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি করে গঠিত ৩৬ সদস্যের এই কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, অর্থ, পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীও সদস্য হিসেবে থাকবেন।

কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, স্থানীয় সরকার, প্রবাসী কল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, বাণিজ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটি অভিবাসী নারী ও পুরুষ কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বা জিসিএমের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩০ বাস্তবায়নের কার্যক্রম তদারকি করবে।

শ্রম অভিবাসন এবং এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংস্কারের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এর বিভিন্ন উইং, বিভাগ, সংস্থা, তহবিল ও ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়াও কমিটির দায়িত্ব।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সংগঠন এবং নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণের মাধ্যমে কার্যকর ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসন পরিচালনা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কাজ করবে কমিটি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের মনোসামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক ও পেশাগত পুনর্বাসনের জন্য ‘প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক অভিবাসী কর্মী, বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের প্রতি তাদের অবদান অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন তৈরিতেও কমিটি সহায়তা করবে।

গন্তব্য দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর সুবিধা অর্জনের বিষয়েও কাজ করবে স্টিয়ারিং কমিটি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন গন্তব্য দেশের শ্রমবাজারে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ জনশক্তির গতিশীলতা বাড়াতে সবুজ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাস’ সর্বজনীন পেনশন স্কিম এবং প্রবাসীদের জন্য চালু করা বিমা কার্যক্রমও তদারকি করবে কমিটি।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বছরে অন্তত একবার স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হবে। জাতীয় শ্রম অভিবাসন ফোরাম এবং স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের মধ্যবর্তী সময় ছয় মাসের বেশি হবে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে কমিটির দায়িত্ব পালনে সহায়তা এবং জাতীয় শ্রম অভিবাসন ফোরামসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বায়রা, সিভিল সোসাইটি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *