Popular Posts

খুদে খেলোয়াড়দের প্রধানমন্ত্রী: “বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে”

ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “খেলাধুলার মাধ্যমে তোমরা বাংলাদেশকে পৃথিবীর মাঝে তুলে ধরবে। তোমরা একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। তোমরাই হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে।”

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আজ শনিবার (২ মে) বিকেলে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ডাক্তার তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের আইনজীবী তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশলী তৈরি হবে। এই দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে। তোমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে। এ জন্যে মন দিয়ে ভালো করে পড়েলেখা করতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলতে হবে। তোমাদেরকে তৈরি হতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর তার বক্তব্য শেষে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর লোগো ও ট্রফির মোড়ক উন্মোচন করেন।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে আসে শিল্পাঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।

আজ শনিবার (২ মে) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাইরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাইরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”

আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’হয়ে এসেছেন তারা।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। এই অনুষ্ঠান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।

প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।

পুরো বাংলাদেশকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *