আজিজুর রহমান দুলাল: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরুর খামার পরিচালনা ও জমি লিজ নিয়ে ঘাস-ভুট্টা চাষে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মো. নাসিরুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, খামার ও কৃষি প্রকল্পে নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে বর্তমানে তিনি বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। একই সঙ্গে বেতন, বোনাস ও অন্যান্য পাওনা বাবদ আরও ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে তাঁর। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গতকাল আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন বোয়ালমারী উপজেলার মদনধরী গ্রামের বাসিন্দা নাসিরুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে নাসিরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমামুল হক জনির ফোন পেয়ে তিনি ঢাকায় যান। সেখানে তাঁকে লজিস্টিক ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে পরিচিত মো. ইউসুফ আল আমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
নাসিরুজ্জামানের দাবি, ইউসুফ আল আমিন তাঁর গরুর খামার পরিচালনার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। প্রথমে আপত্তি করলেও বিভিন্ন আশ্বাসে তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। পরে তাঁর কথায় আলফাডাঙ্গার মালা এলাকায় ২১ একর, শুকুরহাটা এলাকায় ২৫ একরসহ বিভিন্ন স্থানে জমি লিজ নিয়ে ঘাস ও ভুট্টা চাষ শুরু করেন।
তিনি বলেন, জমির লিজ, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য খরচ বাবদ তাঁর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চাষ করা ঘাস ও ভুট্টা নির্ধারিত শর্তে খামারে নেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা নেওয়া হয়নি। এতে জমি পরিষ্কার ও অন্যান্য কাজে তাঁর আরও প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া খামার পরিচালনা ও চাকরির বেতন বাবদ ১৯ লাখ ৮০ হাজার, বোনাস ১ লাখ ৩৫ হাজার, ছুটির টাকা ২ লাখ ৮২ হাজার এবং অন্যান্য পাওনা ৯০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান নাসিরুজ্জামান।
পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য ইউসুফ আল আমিনকে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান নাসিরুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে নাসিরুজ্জামান আরও বলেন, তাঁর ঘাস ও ভুট্টা চাষের বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। চাষাবাদের বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সার, বীজ ও পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও হিসাব তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান।
নাসিরুজ্জামান তাঁর বিনিয়োগ ও পাওনার হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাওনা টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইউসুফ আল আমিনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
