সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন? সাবধান! এই সাধারণ ওষুধগুলোই হতে পারে বিপদের কারণ
দুবাই: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওষুধ বিষয়ক প্রধান কর্তৃপক্ষ ‘এমিরেটস ড্রাগ এস্টাবলিশমেন্ট’ (ইডিই) আগামী ১ নভেম্বর থেকে গৃহপালিত পশু ও খামারজাত পশুপাখির চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক ‘সিপ্রোফ্লক্সাসিন’ (Ciprofloxacin)-এর ভেটেরিনারি ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভেটেরিনারি ওষুধ এবং কাঁচামাল—উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট নয়টি নিবন্ধিত পণ্য সরাসরি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে আটটি আমদানি করা এবং একটি স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করা ওষুধ। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১ নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যমান স্টক খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ বা সময়সীমা পার হওয়ার পর বাকি থাকা স্টক অনুমোদিত পদ্ধতি মেনে হয় পুনঃরপ্তানি করতে হবে, না হয় ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
তবে এই আদেশটি বাণিজ্যিক প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জারি করা হলেও, বিদেশ থেকে ব্যক্তিগত ব্যাগেজে করে পোষা প্রাণীর জন্য সংগৃহীত ওষুধ আনা যাবে কি না—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিপ্রোফ্লক্সাসিন ইডিই-এর নিয়ন্ত্রিত ওষুধের তালিকায় নেই।
এদিকে সাধারণ বিমানযাত্রীরা পড়েছেন ভিন্ন সমস্যায়—ইউএই ভ্রমণে তারা সাথে করে কোন কোন ওষুধ নিতে পারবেন, আর কোনগুলো পারবেন না?
কোন ওষুধগুলো নিষিদ্ধ আর কোনগুলো অনুমোদিত:
এমিরেটস, এতিহাদ কিংবা এয়ার অ্যারাবিয়ার মতো বিমান সংস্থাগুলোর নিজস্ব কোনো নিষিদ্ধ ওষুধের পৃথক তালিকা নেই, তবে তাদের ওয়েবসাইটে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক পণ্যের একটি বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। মূলত সব বিমান সংস্থাই ইডিই-এর নির্দেশনা মেনে চলে, যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালের ইডিই-এর প্রস্তুতকৃত নিয়ন্ত্রিত ড্রাগ তালিকা অনুযায়ী, প্রায় ২৬৮টি ওষুধ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ অথবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সাপেক্ষে বহনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ওষুধ ও উপাদান: হিরোইন, কোকেন, গাঁজা গাছ ও রজন (Cannabis plant & resin), টিএইচসি (THC), সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েডস, এলএসডি, এমডিএমএ, মেসকালিন, খাট (Khat), সাইলোসাইবিন মাশরুম, পিওট (Peyote) এবং পপি গাছ বা আফিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর পাশাপাশি ইয়োহিম্বে বাকল (Yohimbe bark) এবং ফেন্টানিলের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট (যেমন: ৩-মিথাইলফেন্টানিল) এই নিষিদ্ধ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা সত্যায়িত মেডিকেল রিপোর্ট সাপেক্ষে অনুমোদিত: এই তালিকায় থাকা ওষুধগুলো যাত্রীরা কেবল তাদের ভ্রমণের মেয়াদ অনুযায়ী অথবা সর্বোচ্চ তিন মাসের ব্যবহারের পরিমাণ হিসেবে সাথে নিতে পারবেন (যেটি কম হয়)। এমিরেটস জানিয়েছে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে যাত্রার আগেই আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (MoHAP) ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
- অপিঅয়েড ব্যথানাশক (Opioid painkillers): কোডিন, ট্রামাডল, মরফিন, অক্সিকোডোন, হাইড্রোকোডোন, মেথাডোন, ফেন্টানিল, পেথিডিন।
- দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমানোর ওষুধ ও সেডেটিভ: ডায়াজেপাম (ভ্যালিয়াম), আলপ্রাজোলাম (জ্যান্যাক্স), ক্লোনাজেপাম, লরাজেপাম, মিডাজোলাম, টেমাজেপাম।
- ঘুমের ওষুধ: জলপিডেম, জপিক্লোন, জ্যালিপ্লন।
- স্নায়ুর ব্যথা ও খিঁচুনির ওষুধ: প্রিগাবালিন, গাবাপেন্টিন, ফেনোবারবিটাল।
- এডিএইচডি (ADHD) ও স্টিমুল্যান্ট: মিথাইলফেনিডেট, অ্যাম্পেটামিন, ডেক্সঅ্যাম্পেটামিন, লিসডেক্সঅ্যাম্পেটামিন।
- অন্যান্য: সিউডোএফেড্রিন, এফেড্রিন, ফেনটারমিন, বুপ্রেনরফিন, কেটামিন।
পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই সঙ্গে নেওয়া যাবে: এমিরেটসের তথ্য অনুযায়ী, ওভার-দ্য-কাউন্টার (সাধারণ বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া) এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধের জন্য আলাদা কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন, অ্যান্টিহিস্টামিন, ইনসুলিন, রক্তচাপের ওষুধ এবং মানুষের ব্যবহৃত সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ইডিই-এর নিয়ন্ত্রিত তালিকায় নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগুলো আসল প্যাকেজিং এবং মূল ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনসহ বহন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এতিহাদ এয়ারলাইন্সও প্রেসক্রিপশন ও সাধারণ ওষুধ এবং ফ্লাইট চলাকালীন প্রয়োজনীয় মেডিকেল সরঞ্জাম বহনে ছাড় দিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ফ্লাইটে পাউডার জাতীয় জিনিস বহনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেখানে যাত্রীদের উপযুক্ত প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে হয়। একইভাবে আমেরিকাভিত্তিক ফ্লাইটেও সিলগালা করা ও প্রেসক্রিপশনযুক্ত পাউডারে ছাড় দেওয়া হয়।
একইভাবে এয়ার অ্যারাবিয়াতেও যাত্রীরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি পারদযুক্ত ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার নিজেদের চেকড-ইন ব্যাগেজে রক্ষিত কেসে করে নিতে পারেন। এছাড়া মেডিকেল কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা অক্সিজেন সিলিন্ডারই কেবল বিমানে গ্রহণ করা হয়।
ভ্রমণকারীদের উচিত তাদের যেকোনো ওষুধের খবরের জন্য ওষুধের ব্র্যান্ডের নাম না দেখে কেমিক্যাল বা জেনেরিক নামটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া, কারণ ইডিই-এর তালিকাটি একটিভ উপাদান বা মূল উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো ওষুধ নিয়ে সন্দেহ থাকলে ভ্রমণের আগে নিকটস্থ ইউএই দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করা শ্রেয়। একই সাথে কেবিন ব্যাগেজ বা চেকড-ইন ব্যাগেজে ওষুধ বহনের নিয়মাবলী জানতে নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সে ফোন দিয়ে জেনে নেওয়া যেতে পারে। সবসময় মূল প্যাকেজিং ও প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখুন এবং ওষুধটি নিয়ন্ত্রিত তালিকার হলে আগেই অনুমোদনের আবেদন করার পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন।
Source: Gulf News

