আজিজুর রহমান, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২ হাজার ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী মহাসড়কের লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাহিম নার্সারির পূর্ব পাশে অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুইজনকে ১ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও ১৮০ পিস ইয়াবাসহ লিমন খান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার কালি বাবু রোডের মাহাবুল আলম (৪৩), উপজেলার আরাজি রুদ্রবানা গ্রামের ইমামুল শেখ (৩৬) এবং কামারগ্রাম গ্রামের লিমন খান। লিমন খানের বাবার নাম মৃত নিজাম খান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাহাবুল আলম ও ইমামুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাহাবুল আলমের পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত আটটি পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার ৬০০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার মোট ওজন ১৬০ গ্রাম বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরদিকে ইমামুল শেখের পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট থেকে নীল রঙের জিপারযুক্ত একটি পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ওই প্যাকেটে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৩০ গ্রাম বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় মাহাবুল আলম ও ইমামুল শেখের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলফাডাঙ্গার কামারগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিমন খানের কাছ থেকে আরও ১৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ২ হাজার ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধনী ২০২৬)-এর ৩৬(১) সারনির ১০(ক) ধারায় আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। উপপরিদর্শক (খ-সার্কেল) মো. রাসেল কবীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে পুলিশের এ দাবির বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের নাম-ঠিকানা এজাহার ও জব্দ তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করার জন্য ফরিদপুরে নেওয়া হয়েছে।
