ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আদালতে আপিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের আদালতের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদনও করেছে মার্কিন সরকার। এতে গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন শুরুর সময় নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহটা ডিভি লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। অভিবাসন আইন সংস্থা রেড ঈগল ল-এর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভার্সিটি ভিসা কর্মসূচি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

প্রতিবছর ডিভি লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবে কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচিত ও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তিরা এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।

গত ১৯ অক্টোবর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি চলাকালে আদেশটি কার্যকর না রাখার জন্য পৃথক আবেদনও জমা দেওয়া হয়।

ডিভি-২০২৭ নিবন্ধন বন্ধ থাকার কারণ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৫ সালের নভেম্বরে জানিয়েছিল, ডিভি-২০২৭ লটারির আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু ২০২৭ অর্থবছর গত ১ অক্টোবর শুরু হলেও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হয়নি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নিবন্ধনের সুযোগ না থাকলে আগ্রহীরা ডাইভার্সিটি ভিসার জন্য আবেদনই করতে পারেন না। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কার্যত পুরো কর্মসূচি বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

বিচারক ওহটার মতে, সাময়িকভাবে নিবন্ধন স্থগিত রাখার ঘোষণা কীভাবে অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশে পরিণত হলো, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। কর্মসূচিটির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যার অভাবে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী ও যুক্তিহীন হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মামলায় সরকারের যুক্তি খারিজ
মামলাটি দায়ের করে রেড ঈগল ল যুক্তি দেয়, ডিভি লটারির নিবন্ধন বন্ধ থাকায় তাদের গ্রাহকসংখ্যা ও আয় কমে যাচ্ছে। এ ক্ষতি পরবর্তী সময়ে মামলার মাধ্যমে পূরণ করাও কঠিন হবে।

বিচারক ওহটা মনে করেন, নিবন্ধন চালু করার নির্দেশে সরকারের ওপর অন্যায্য চাপ তৈরি হবে না। বরং ফেডারেল আইন অনুযায়ী কর্মসূচি পরিচালনার ব্যবস্থা করা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, মার্কিন সরকার দাবি করেছিল, নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আদালতের পক্ষে লটারি চালুর নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। দেশজুড়ে কার্যকর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করাও যথাযথ নয় বলে যুক্তি দেয় সরকার।

তবে বিচারক এসব যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিলম্বে নিবন্ধন শুরু হলেও কংগ্রেসের নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের শর্ত পূরণ করা সম্ভব।

নিবন্ধন শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধন শুরুর সময় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এরপর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অবহিত করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল এবং আদালতের আদেশ স্থগিত রাখার আবেদনের কারণে এই সময়সূচি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিবন্ধন করলেই কি গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে?
ডিভি লটারিতে নিবন্ধন করা কিংবা নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

তাই নিবন্ধন চালুর বিষয়ে আদালতের আগের নির্দেশনা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের নিবন্ধন ও ভিসা-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *