আজিজুর রহমান দুলাল: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও স্থানীয় শত্রুতার জেরে মো. সুমন মোল্যা (৪০) নামের এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পানাইল এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সুমন ওই গ্রামের আ. সাত্তার মোল্লার ছেলে। তাকে গুরুতর অবস্থায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনার দিন বিকেলে একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওত পেতে থাকে। সুমন মোল্যা পানাইল বাজারের পূর্ব পাশে আশরাফ মীরের বাড়ির সামনের ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে আসামিরা তার পথরোধ করে। এরপর একই গ্রামের আজম শেখের ছেলে ওবায়দুর শেখ (৩০) ও কাঞ্চে শেখের ছেলে আলম শেখের (৫০) নেতৃত্বে ২৫-২৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রামদা, সুরকি, লাঠি ও রড নিয়ে সুমনের ওপর আচমকা হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে মাটিতে ফেলে রাখে। সুমনের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সুমনের মাথা, কোমর, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়েছে। ক্ষতস্থানগুলোতে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিছানায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সুমনের স্বজন মো. লিয়াকত হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় সুমনের কাছে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় মো. লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ”ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
