শ্রম আইন লঙ্ঘন করে ছুটি না দিলে বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সুযোগ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তাই গর্ভবতী নারী কর্মীকে তার মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদানে অস্বীকার করতে পারেন না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা মালিকপক্ষ এই আইনি অধিকার থেকে নারী কর্মচারীকে বঞ্চিত করে, ছুটি কম দেয় বা গর্ভাবস্থার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে, তবে তা দেশের শ্রম আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির নিয়মাবলী
ইউএই-এর শ্রম আইন (২০২১ সালের ফেডারেল ডিক্রি-আইন নং ৩৩)-এর ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রত্যেক নারী কর্মী মোট ৬০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকারী।
এই ছুটির কাঠামোগত নিয়মগুলো হলো:
- প্রথম ৪৫ দিন: পূর্ণ বেতনসহ ছুটি।
- পরবর্তী ১৫ দিন: অর্ধেক (৫০%) বেতনসহ ছুটি।
চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা বা শিক্ষানবিস কাল (Probation Period) যাই হোক না কেন—চাকরির প্রথম দিন থেকেই এই ছুটি কার্যকর হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে কতদিন কাজ করেছেন, তা এই ছুটির ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের এক মাস আগে থেকেই এই ছুটি শুরু করার সুযোগ রয়েছে।
অসুস্থতা ও বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছুটির সুবিধা
প্রসবজনিত জটিলতা বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো নারী সময়মতো কাজে ফিরতে না পারলে, যথাযথ চিকিৎসকের সনদ জমা দিয়ে তিনি অতিরিক্ত ৪৫ দিনের অবৈতনিক (Unpaid) ছুটি নিতে পারবেন।
এছাড়া, নবজাতক শিশু যদি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা গুরুতর অসুস্থ হয়, তবে মা পূর্ণ বেতনসহ অতিরিক্ত ৩০ দিনের ছুটি পাবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে এই ছুটি আরও ৩০ দিন (অবৈতনিক) বাড়ানো সম্ভব।
ছুটি প্রত্যাখ্যান ও বেআইনি বরখাস্তের পরিণাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, কর্মচারীর চাকরির চুক্তিপত্রে (Employment Contract) মাতৃত্বকালীন ছুটির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলেও এই সুবিধা আইনগতভাবে প্রযোজ্য থাকবে। গর্ভাবস্থা বা মাতৃত্বকালীন ছুটি চাওয়ার কারণে কোনো কর্মী laboral সুরক্ষা হারাবেন না।
যদি কোনো নিয়োগকর্তা বেআইনিভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানান বা ছুটি চাওয়ার কারণে কর্মীকে বরখাস্ত করেন, তবে আইন অনুযায়ী তা “অবৈধ বরখাস্ত” (Arbitrary Dismissal) হিসেবে গণ্য হবে।
ভুক্তভোগীদের আইনি প্রতিকার
ছুটি প্রত্যাখ্যান বা চাকরির কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে ভুক্তভোগী কর্মী নিম্নোক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন: ১. যোগাযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ: নিয়োগকর্তার সঙ্গে ছুটি সম্পর্কিত ইমেইল, আবেদনপত্র এবং মেডিকেল রিপোর্ট সুরক্ষিত রাখা।
২. MOHRE-তে অভিযোগ: মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ মন্ত্রণালয়ে (Ministry of Human Resources and Emiratisation – MOHRE) সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা।
৩. আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ: মন্ত্রণালয়ে সমঝোতা না হলে বিষয়টি শ্রম আদালতে স্থানান্তরিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তাকে সর্বোচ্চ ৩ মাসের সমপরিমাণ বেতনের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা দিতে বাধ্য করা হতে পারে।
