মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিদেশে পলাতক সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজি বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। এর মাধ্যমে পলাতক এই আসামিকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ করার পরিকল্পনা ও অভিযানে তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন আজিজ আহমেদ। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বসে অভিযানের অপারেশনাল রূপরেখা তৈরি এবং তার নির্দেশে ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে বলপ্রয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংস্থা এসব অভিযোগের যুক্তিসঙ্গত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ায় গত ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো পলাতক আসামিকে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে ফিরিয়ে এনে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের বাইরে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস- ৫/২৬ নম্বর মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
