বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

আজ রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।

দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য তার কাছে নেই। তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বৈঠক থেকে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।’

একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে, হুতিদের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে, আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।

চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’—দুটি ভিন্ন বিষয়। এ দুটি ধারণা নিয়ে বিভ্রান্তি না রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *