নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদক, কিশোর গ্যাং, দুর্নীতি ও ইভটিজিং মুক্ত একটি সচেতন, নিরাপদ ও আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে যুব সমাজের ভূমিকা শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রার্থী এস এম মোদাচ্ছের শাহ্-এর উদ্যোগে স্থানীয় যুব সমাজকে সাথে নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাদার্শা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় সমাজসেবক আকতার হোসেন বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট ফেরদৌস মোরশেদ খান (এ,পি,পি)। বিশিষ্ট সংগঠক জাহেদ চৌধুরীর প্রাণবন্ত ও তথ্যবহুল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রকৌশলী মাহফুজ চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুর উদ্দিন।
মুজাম্মেল শাহ-এর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মুফতি মাওলানা এরফান শাহ, প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলম, সাংবাদিক জাহেদ মঞ্জু, ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস ওয়াহিদ মিন্টু, হালদা পোনা বিশেষজ্ঞ শফিউল আলম এবং জনপ্রতিনিধি তালেব মেম্বার।
এছাড়াও সমাজকর্মী লোকমান আকবর, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শওকত আলি, আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ দেলাওয়ার, যুবনেতা গিয়াসউদ্দিন রিচার্ড, কৃষি বান্ধব নেতা আলাউদ্দিন, ওসমান গণি, ছাত্রনেতা তানবির (সি.ইউ), ছাত্রনেতা ইমন (সি.ইউ), সমাজকর্মী মোরশেদ আলম চৌধুরী, রবিউল হোসেন চৌধুরী, মোরশেদ মিন্টু, মনিরুল ইসলাম ও ইলিয়াসসহ স্থানীয় প্রায় তিন শতাধিক যুবক এই সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নূরুল আজিম, জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত যুব সমাজের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রার্থী এস এম মোদাচ্ছের শাহ-এর কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও তীক্ষ্ণ প্রশ্ন রাখা হয়। যুবকরা জানতে চান আগামীতে তিনি নির্বাচিত হলে মাদক নির্মূলে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে, আলেমদের ভূমিকা মূল্যায়নে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিষদ গঠনে কী কী পদক্ষেপ নেবেন?
প্রশোত্তর পর্বে যুবকদের আশ্বস্ত করে এস এম মোদাচ্ছের শাহ তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “আল্লাহ যদি আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তবে আমি এই ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল, হয়রানি ও দালালমুক্ত ঘোষণা করব। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি প্রবাসী ভাইদের সহযোগিতায় একটি বিশেষ ‘উন্নয়ন তহবিল’ গঠন করা হবে, যা এলাকার টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”
যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি প্রতি বছর বড় পরিসরে ‘চেয়ারম্যান কাপ টুর্নামেন্ট’ (ফুটবল/ক্রিকেট) আয়োজনের ঘোষণা দেন। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি কয়েক মাস পর পর ‘জনতার মুখোমুখি’ (Town Hall Meeting) অনুষ্ঠান করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কৃষি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিশেষ অঙ্গীকার:
মোদাচ্ছের শাহ তাঁর বক্তব্যে কৃষকদের জন্য সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি কার্ড নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক চাষাবাদের জন্য পরামর্শ সভার আয়োজনের কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত ডাক্তারের উপস্থিতি, জরুরি ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার মান উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা টিসিবির কার্ড বিতরণে কোনো স্বজনপ্রীতি বা ঘুষ লেনদেন সহ্য করা হবে না। শতভাগ উন্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দুস্থদের মাঝে কার্ড বণ্টন করা হবে।”
প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমাদের প্রবাসী পরিবারের প্রতিনিধিরা অনেক সময় দেশে একা থাকায় অসহায় বোধ করেন। তাদের যেকোনো সমস্যায় আমি পরিবারের সদস্য হয়ে পাশে দাঁড়াব।”
মাদকের ব্যাপারে তিনি বলেন আমি চেয়ারম্যান না হলেও মাদকের ব্যাপারে জিরু টলারেন্স থাকব,
আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, ফতেয়াবাদ টু আজিমার ঘাট যে রাস্তাটি এখন ৩টি রাস্তা হয়ে গেছে, সেটিকে আবার একই আইডি বা এক রাস্তায় আনা হবে। এছাড়া ‘বাড়িঘোনা’ এলাকা নিয়ে তাঁর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে স্লুইস গেইট, ব্রিজ ও কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণসহ বিশেষ নজর দেওয়া হবে। সর্বোপরি উত্তর মাদার্শার সার্বিক উন্নয়নে নিজের সর্বস্ব দিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী।
