ফরিদপুর প্রতিনিধি: ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত বিষাদে রূপ নিয়েছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়, যেখানে ফুলগাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে সামান্য বাগ্বিতণ্ডার জেরে মাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিত বানা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত ষাটোর্ধ্ব ফুলজান বেগম ওই গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী এবং ঘটনার পর থেকেই তার ২৫ বছর বয়সী দিনমজুর ছেলে হোসেন শেখ পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ফুলজান বেগম তার ছেলে হোসেনের ঘরের সামনে একটি ফুলগাছের চারা লাগাতে গেলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে হোসেন শেখ ঘরে থাকা একটি কোদাল দিয়ে তার মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করেন, যার গুরুতর জখমে ঘটনাস্থলেই ফুলজান বেগমের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, মা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো, তবে কিছুদিন আগে হোসেনের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ ও একাকীত্বে ভুগছিলেন। ঈদের মতো একটি উৎসবের দিনে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু করে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তৎপরতা চলছে।
ফরিদপুরে ঈদের সকালে মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক
Facebook Comments Box
