বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডেনমার্ক। স্বাস্থ্য খাতের অভিন্ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।
বুধবার ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ই-হেলথ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাংলাদেশে আরও দক্ষ ই-হেলথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কথা তুলে ধরেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত। এগুলো হলো—ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন সেবা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো। বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে আসে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা লবণাক্ততার প্রভাব, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৩০ কোটি ইউরো অর্থায়নে অংশ নিচ্ছে ডেনমার্ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ৭০ থেকে ৯০ লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নিয়মিত সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।
স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-ডেনমার্ক অংশীদারিত্বকে আরও কার্যকর করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
