আমিরাতে ভ্যাট ও কর্পোরেট ট্যাক্স জরিমানা এড়াতে ই-ইনভয়েসিং সেমিনার

দুবাইঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্যাট এবং নতুন কর্পোরেট ট্যাক্স আইন সঠিকভাবে না মানায় ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন।  মূলত এই উদ্ভূত সংকট থেকে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গত সোমবার রাতে রাস আল খাইমাহর হিলটন গার্ডেন ইন-এ ‘জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস’ এবং ‘ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউএই-এর আসন্ন ই-ইনভয়েসিং কাঠামো, ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, কর্পোরেট ট্যাক্স এবং বিজনেস প্রসেস অটোমেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দুবাই, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ এবং রাস আল খাইমাহ থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অর্থ ব্যবস্থাপক এবং হিসাবরক্ষক এই সেমিনারে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ।  তিনি এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিশাল এবং প্রাণবন্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটি থাকলেও তাদের আধুনিক কর ব্যবস্থার নিয়মকানুনের সাথে অভ্যস্ত করতে এর আগে খুব বেশি উদ্যোগ দেখা যায়নি। ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস এবং জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস-এর এই যৌথ প্রয়াস প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ইউএই-এর ডিজিটাল অর্থনীতি এবং নতুন আইনি পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।  অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার।  কূটনৈতিক কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে আমিরাতের নতুন নিয়মনীতি ও ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা পরিচালনার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন এবং কীভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায় তা ব্যাখ্যা করেন।  এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রাস আল খাইমাহ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন স্পোর্টস ক্লাবের নির্বাহী চেয়ারম্যান আরিফ ইব্রাহিম আল হারানকি।

সেমিনারে ট্যাক্স এবং কমপ্লায়েন্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুমনা রহমান একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদর্শন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ই-ইনভয়েসিং শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি ব্যবসার স্বচ্ছতা এবং সঠিক কর প্রতিবেদনের একটি বড় মাধ্যম। এখনো যারা সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ করছেন, তারা যেকোনো সময় অডিট ঝুঁকি, নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে পারেন। ফেডারেল ট্যাক্স অথরিটির (এফটিএ) ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন মেনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে তিনি এখনই সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নের দিকটি তুলে ধরে জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস এর সিইও মোহাম্মদ মাহফুজ উল আলম দেখান কীভাবে আধুনিক ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, কর্পোরেট ট্যাক্স রিপোর্টিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। ইউএই-এর নির্মাণ খাত, পরিবহন, পোশাক ব্যবসা, আবাসন সামগ্রী কেনাবেচা, রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি এই জি স্প্রিঙ্ক ইআরপি প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় কর কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, এইচআর ও পে-রোল এবং অ্যাকাউন্টিং একই ছাদের নিচে এনে এই সফটওয়্যারটি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ম্যানুয়াল কাজের চাপ কমিয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। সবশেষে, ইউএই-এর দ্রুত অগ্রসরমান ডিজিটাল অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের আরও দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *