আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সকল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত পৌর এলাকার মানুষেরা। পৌরসভায় ২০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের বেশির ভাগই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে সুপেয় খাবার পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ময়লা ফেলার ড্রাস্টবিন রয়েছে যত্রতত্র অবস্থায়। একটু বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় তৈরি হয় জলবদ্ধতা। পানিবন্দি হয় পড়ে পৌরবাসী।
সাতক্ষীরা পৌরসভার নিজস্ব যানবহন ও জনবল থাকলে থাকেনা সময় মত তাদের কার্যক্রম। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও ডাস্টবিন গুলোতে পড়ে থাকে পৌরসভার ময়লা আর্বজনা। গন্ধ ছুটতে থাকে রাস্তা দিয়ে। চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকা স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
এ দিকে বর্তমান সময়ে বিশুদ্ধ সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট ধারণ করেছে পৌর এলাকার। কথা আছে ‘মরার উপরে খড়ার ঘা’ মাসের পার মাস বিল দিয়েও জোটেনা পানি! তার উপরে ১লা জুন থেকে পৌরসভার পানির বিল ১শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে পৌরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সাতক্ষীরা পৌরসভার পানির গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৮১৫টি সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক গ্রাহকের উপরে অযৌক্তিক ভাবে চাপিয়ে দিয়েছে পানির বিল। ১শ’ টাকার পানির বিল ৩০০ টাকা ও ১৫০ টাকার বিল ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সচেতন মহল মানববন্ধনসহ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ শুরু করেছে অনেকে।
এ দিকে ১শ’-৪শ’ টাকা পানির বিল করাকে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন পৌরবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে জেলা নাগরিক কমিটির নেতারা। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুন:বিবেচনা করে পৌরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ ও পূর্বের নির্ধারিত মূল্য করার জোর দাবি তুলেছেন তারা।
জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ বলেন পানির সংকটে যখন সাতক্ষীরা পৌরসভার মানুষ দিশেহারা ঠিক তখনই কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ১শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪শ’ টাকা করেছে পৌরকর্তৃপক্ষ। যা খুবই দু:খজনক। একটি ৫তলা ভবনের বিল যে টাকা ধরা হচ্ছে আবার একটি বাসা বাড়ির বিল একই ধরা হচ্ছে এটা কোন ভাববেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী ফিরোজ হাসান জানান, গত ৭ বছর আমরা নাগরিকদের পানির সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি এটা আমাদের ব্যর্থতা! আমি দায়িত্বের সাথে বলতে পারি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৩-৫ কোটি টাকা হলে এই পানির সংকট দূর করা সম্ভব। আমাদের পানি শাখার যারা কাজ করে তারা ৫-৭ মাস বেতন পায় না। এছাড়া পানি শাখার বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রিপেইড মিটার লাগানোর কারনে অগ্রিম বিল দিয়ে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। দু-দফায় বিদ্যুৎ বিল বাড়লেও ১৯৯৬ সাল থেকে বাড়েনি পানির বিল। এর আগে থেকে পানির বিল দফায় দফায় বাড়ালে মানুষের এতটা সমস্যা হতো বলে মনে করিনা। পৌরসভার সকলে মিলে আমাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন মন্ত্রণালয়ে কথা বলে পানির বিল বৃদ্ধি করে। নাগরিক কমিটির সদস্যরা এসেছিলো আমরা তাদের সাথে বসে আরও ১শ’ টাকা করে কমিয়েছি। তিনি আরও বলেন যে এলাকায় পানি যায় না সেটা আমাদের দেখার দায়িত্ব না পৌরসভার পানির দায়িত্বে যারা আছে তাদের সাথে কথা বলে সমাধান করা যায়। যাদের বাড়িতে পানি যায়না তারা দরখাস্ত করে লাইন বিছিন্ন করবে। তাহলে বাড়িতে আর পানির বিল যাবে না।