সংযুক্ত আরব আমিরাত: সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খায়মা (রাক) চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ উপস্থিত থেকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় বর্তমান সরকারের গৃহীত বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের পাশাপাশি রাস আল খায়মায় ব্যবসা পরিচালনাকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ রাক চেম্বারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আল নুaimi এবং তাঁর টিমকে আগামী নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে রাক চেম্বার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আল নুaimi বিশেষ করে দেশের ওষুধ শিল্প (ফার্মাসিউটিক্যালস) এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, জিসিসি (GCC) ও মেনা (MENA) অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান ফার্মা কোম্পানি ‘জুলফার’ (Gulf Pharmaceutical Industries) বাংলাদেশের ওষুধ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য খুব শীঘ্রই সমীক্ষা (ডিউ ডিলিজেন্স) পরিচালনা করতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘রাক সিরামিকস লিমিটেড’-এর প্রায় ৬৯ শতাংশ বিনিয়োগই রাস আল খায়মার বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া বাংলাদেশের আর্থিক ও আবাসন (রিয়েল এস্টেট) খাতেও তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সরকার পর্যায়ে (B2B এবং G2G) এমন অংশীদারিত্ব ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে জোরালো প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ বা সেপা (CEPA) চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া বর্তমানে সঠিক পথে রয়েছে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
