বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত নীতি বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজের আইনি সীমার বাইরে গিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা মার্কিন অভিবাসন আইনের সরাসরি পরিপন্থী। এই রায়ের ফলে হাজার হাজার আবেদনকারীর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এ নীতি বাতিল করে রায় দেন।

আদালতে বিচারক বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনেরও পরিপন্থী। আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন যাচাই করে কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা।

সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রচলিত আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক দেশও এ তালিকায় ছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। এ কারণেই তাঁদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

এ রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক দেশও এ তালিকায় ছিল।

বিচারক ভার্গাস এ রায় দিয়েছেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামে দুটি সংগঠনের করা মামলায়। সঙ্গে মামলায় ছিলেন তালিকাভুক্ত ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা। এ ছাড়া এসব দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য তাঁদের পক্ষে যেসব মার্কিন নাগরিক অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন, তাঁরাও মামলায় ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারিতে এই নীতি কার্যকর করার সময় বলেছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি ভাতা কিংবা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *