জাপানের ৫০তম জাতীয় পানি দিবস উদযাপন: টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় যৌথ সহযোগিতার বার্তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

জাপানের জাতীয় পানি দিবস ও পানি সপ্তাহের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। জাপানের সম্রাট নারুহিতোর আমন্ত্রণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও টেকসই বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী আবদুল্লাহ বালালা-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই উদযাপনী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

সফরকালে সহকারী মন্ত্রী আবদুল্লাহ বালালা জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সাথে সাক্ষাত করেন। এছাড়া তিনি জাপানের বেশ কয়েকজন সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সাথে আলোচনায় অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে উদ্বোধনী মূল বক্তব্য (কী-নোট অ্যাড্রেস) প্রদান করেন। সফরটিতে পানির গুরুত্ব সচেতনতা তৈরি, উদ্ভাবন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের বিগত পাঁচ দশকের নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়।

আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে আবদুল্লাহ বালালা বৈশ্বিক পানি টেকসইকরণে ভূমিকা রাখার জন্য জাপান ও মিশরের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। চলতি বছরের শেষের দিকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘জাতিসংঘ পানি সম্মেলন ২০২৬’ (2026 UN Water Conference)-এর প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মেলনের ছয়টি মূল ট্র্যাকের অন্যতম ‘ওয়াটার ফর প্ল্যানেট’ বিষয়ক আলোচনার কো-চেয়ার হিসেবে জাপান ও মিশর অসাধারণ নেতৃত্ব দিচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ (SDG6) অর্জনে বাস্তবমুখী ও প্রসারণযোগ্য সমাধান বের করতে এই ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে।

সম্মেলনে নীতি-নির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের উপস্থিতিতে আবদুল্লাহ বালালা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বন্যা, খরা, পানির তীব্র সংকট, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয় এবং অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মতো সমস্যার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ফুটে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সুসংহত ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

সহকারী মন্ত্রী পানি শোধন ও লবণাক্ততামুক্তকরণ (Desalination), প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তীব্র পানির সংকট থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউএই কীভাবে নিজের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, সেনেগালের সাথে যৌথভাবে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ পানি সম্মেলনের স্বাগতিক হিসেবে কাজ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বের বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে বিশ্বজুড়ে পানিসম্পদ রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশ দুটি।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *