
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, ইসলাম মেনেই তিনি সুদের হার বাড়াচ্ছেন না। টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে এরদোগান এ কথা বলেন। খবর ডিডব্লিউর।
ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দাম পড়ে যাওয়ার মধ্যে এরদোগান জানান, তিনি আর্থিক নীতি বদলাবেন না। এরদোগানের ভাষণের পর লিরার দাম সামান্য বাড়ে।
তুরস্কে এখন জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। মুদ্রাস্ফীতির হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও এরদোগান সেন্ট্রাল ব্যাংককে সুদের হার কমাতে বলছেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নীতির ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এরদোগান জানান, তিনি ইসলামকে অনুসরণ করেই চলবেন। সে জন্যই তিনি সুদের হার কম করতে বলেছেন। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাহায্য করবেন এবং পেনশন তহবিলে আরও অর্থ দেবেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, একজন মুসলিম হিসাবে আমি সেটাই করব, যা আমাকে ধর্ম করতে বলে। সেটিই আমার কাছে একমাত্র নীতিনির্দেশিকা।
লিরার দাম কমে যাওয়ায় তুরস্কের সাধারণ মানুষ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছেন।
বিদেশি কূটনীতিকরা মনে করছেন, এরদোগান ভাবছেন, আর্থিক উন্নতি হলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি সহজে জিতবেন। এর ফলে তিন দশক ধরে তিনি তুরস্কে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
এরদোগান মনে করেন, মুদ্রার দাম কম হলে রফতানি বাড়বে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমাতে হলে সুদের হার বাড়াতে হবে। অপরদিকে এরদোগান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি মুদ্রাস্ফীতির হার চার শতাংশের মধ্যে রাখবেন।
গতমাসে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তিনি আর্থিক স্বাধীনতার লড়াই লড়ছেন। লক্ষ্য হলো, তুরস্ককে বিদেশি বিনিয়োগের নির্ভরতা থেকে বের করে আনা।