August 13, 2022, 11:58 am
সর্বশেষ:
বানিয়াচংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ সিরাজগঞ্জে বাড়তি খরচে চলতি মৌসুমে আমন ধানের চাষাবাদ শুরু ফ্রান্সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দাবানল, সহযোগিতায় আশেপাশের দেশ নিউইয়র্কে অতর্কিত হামলার শিকার বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদী কোম্পানীগঞ্জে র‌্যাবের হাতে ফেন্সিডিলসহ মাদককারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা চা শ্রমিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন করার কথা ভাবছে সরকার আগামী বছর থেকে ব্রান্ড জনসন অ্যান্ড জনসন উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা জনতার সুনামিতে সরকার ভেসে যাবে: মির্জা ফখরুল

হাকালুকি হাওরে আবার ও টর্নেডোর পূর্বাভাস

  • Last update: Tuesday, July 26, 2022

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের ছয় উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে টানা দুদিন Waterspout বা জলজ টর্নেডো দেখা গেছে। গত ২৩ জুলাই (শনিবার) হাকালুকি হাওরের বড়লেখা উপজেলার অংশে চাতলবিল এলাকায় প্রথমবার বিস্ময়কর এ টর্নেডোর উৎপত্তি হয়। তাতে হাকালুকির তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতুহল সৃষ্টি হয়। অনেকে ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এর রেশ কাটার আগেই ঠিক পরদিন রোববার (২৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে হাকালুকি হাওরের জুড়ি উপজেলার অংশে দ্বিতীয়বার টর্নেডোর দেখা মেলে।
জানা যায়, টর্নেডোর উৎপত্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রোববার বিকেলে জাপানের কাইটো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রফেসর ড. শি থাইচি হায়াসি ও মাসাশি সাকামতো এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী হাকালুকি হাওর পরিদর্শনে যান। সেসময় তারা দেখতে পান আবারো টর্নেডোর সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর পানির স্তম্ভ ছিল খুবই চিকন। আগের দিনের চেয়ে অধিকন্তু দুর্বল ছিল সেটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, জাপানের দু’জন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়ে হাকালুকি হাওরে টনের্ডোস্থল পরিদর্শনে গেলে ওইদিন আবারো টর্নেডোর উৎপত্তি চোখে পড়ে। অবশ্য সেটি দুর্বল ছিল।

Advertisements

তিনি বলেন, আমরা অনেকটা দূর থেকে টর্নেডোস্থল দেখেছি। সেখানে বাতাসের ইউং ছিল কম। ভ্যাপসা গরম ছিল এবং বাতাসের ঘুর্ণয়ন গতি যে পানি উপরে টেনে তোলে আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে যায়।

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র জলভাগে টর্নেডোর তেমন ক্ষতি করতে পারে না। তবে এর ব্যপ্তি ১০/১২ কিলোমিটার হতে পারে। ঘুর্ণয়ন গতিসীমায় যা পড়বে, তা উপরে তুলে নেবে। ওইস্থানে আকাশে কালো মেঘ জমে বিজলী চমকায় এবং বিকট শব্দে গর্জন হয়। তবে লম্বা পিলার আকারের স্তম্ভের নীচে মাটি-পানির সংস্পর্শে থাকলে সেটি প্রলয়ঙ্করী রূপ ধারণ করে সব কিছু মাটিতে মিশিয়ে দেয়। সাধারণত প্রলয়ঙ্করী টর্নেডোর গতিসীমা ২০০ কিলোমিটার বা তারও অধিক হতে পারে। এর আগে নেত্রকোনায়ও টর্নেডোর সৃষ্টি হয়েছিল। সেটির ব্যপ্তি ছিল ১২ কিলোমিটারজুড়ে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান দুই যুগ ধরে ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন। হাকালুকির টর্নেডোর বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই একটি শক্তিশালী টর্নেডো ছিল। আমরা সাধারণত স্থলভাগে টর্নেডোর কথা শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের জলাভূমিগুলোয় এ ধরনের টর্নেডো আঘাত হেনে থাকে। দেশের উপকূলীয় এলাকা, বঙ্গোপসাগর ও জলাভূমিগুলোয় প্রায় প্রতিবছর ছোট ছোট টর্নেডো আঘাত হানার তথ্য আমরা পাই। তবে অন্য টর্নেডোর তুলনায় হাকালুকির টর্নেডোটি বেশ ব্যতিক্রম ছিল। এর ফানেলটির দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫০০ মিটার বা আধা কিলোমিটার বলে মনে হয়েছে। আব্দুল মান্নান আরও বলেন, এমনিতেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি। গত জুন মাসে আমরা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে এক দিনে প্রায় এক হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখেছি। দেশের ভেতরেও অনেক স্থানে অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। এরপর আমরা দেখলাম ভরা বর্ষা মৌসুমে টানা দাবদাহ। তার মানে, আবহাওয়ায় অস্বাভাবিক সব ঘটনা ঘটছে। এ টর্নেডোও তার একটি উদাহরণ। দাবদাহের কারণে সিলেটের হাওর এলাকাগুলোয় এমনিতেই তাপমাত্রা বেশি ছিল। এ কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত ওপরের দিকে উঠে গিয়ে শূন্যতা তৈরি হয়। আর আকাশে মেঘ থাকায় প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে টর্নেডোটি আঘাত হানে।পানিতেই এই টর্নেডোর অবস্থান সম্পর্কে আবদুল মান্নান বলেন, এ টর্নেডো মূলত পানিতে আঘাত হেনে প্রায় তিন মিনিট স্থায়ী হয়ে তারপর দুর্বল হয়ে যায়। ভূমিতে না ওঠার কারণ হচ্ছে হাওরের বিশেষ ধরনের ভূপ্রকৃতি। এখানে পানির গভীরতা কম থাকে। পানির সামান্য নিচে কাদামাটির স্তর ছিল। যে কারণে পানিতে আঘাত হেনে তা ওই কাদামাটি পর্যন্ত পৌঁছানোর পর সেখানে সম্ভবত গর্ত করে শক্তি ক্ষয় করে ফেলে। যে কারণে টর্নেডোটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে ছিল বলে মনে হয়েছে। বাতাসের ওই ঘূর্ণির সঙ্গে তৃণ, মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী টানেল দিয়ে ওপরের দিকে উঠে পড়ার কথা। তবে এটি দুর্বল হওয়ার পর সেগুলো আবারও নিচে নেমে যায়।

Advertisements

এটি ভূমিতে আঘাত করলে কী হতে পারত এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মান্নান বলেন, এটি ভূমিতে আঘাত হানলে জীবন ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ১৯৮৯ সালে ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়ংকর টর্নেডো আঘাত হানে। সেখানে হাজারখানেক মানুষ প্রাণ হারায়। লাখখানেক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস হয়। এরপর আমরা ২০১৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ২০১৪ সালে নেত্রকোনায় টর্নেডো আঘাত হানতে দেখেছি। এ কারণে ভূমিতে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হতো।

তিনি বলেন, গত এক যুগে দেশে টর্নেডোর আঘাত হানার প্রবণতা বেড়েছে। আগে সাধারণত আমরা চার থেকে পাঁচবছর পরপর টর্নেডো আঘাত হানতে দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা দেখছি, প্রায় প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো টর্নেডো আঘাত হানছে। এতে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে জলজ টর্নেডোর পরিমাণ বেড়ে যেতে দেখছি। আর টর্নেডোর পূর্বাভাস এখনোসঠিক ভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমাদের টর্নেডোর ক্ষতি মোকাবিলার উপযোগী করে বাড়িঘর নির্মাণ করতে হবে। আর কোথাও টর্নেডো শুরু হলে পাকা ভবন ও শক্তিশালী কোনো অবকাঠামোর মধ্যে আশ্রয় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে হাকালুকি হাওরের বড়লেখা উপজেলা অংশের চাতলারপাড় বা চাতলবিল এলাকায় বিস্ময়কর টর্নেডোর দেখা মেলে। ওই সময় হাকালুকির পানি জোয়ারের ন্যায় জলস্তম্ভটি টেনে আকাশে তুলে। আকাশ কালচে বর্ণ ধারণ করে বিজলী চমকে গর্জন করতে থাকে। জল আর আকাশে পানির পিলারের তৈরী হওয়া স্তম্ভ দেখতে হাকালুকির তীরবর্তী লোকজন কৌতুহল ভরে দেখতে থাকেন। সেটি বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল। তখন আকাশ কালো মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।হাওরে নৌকা নিয়ে থাকা অনেকে ভীতসন্ত্রস্তপাড়ে ভিড়ে।

Advertisements
Drop your comments:

Please Share This Post in Your Social Media

আরও বাংলা এক্সপ্রেস সংবাদঃ
© 2022 | Bangla Express | All Rights Reserved
With ❤ by Tech Baksho LLC