May 24, 2022, 10:09 pm

লাউয়াছড়া বিকল্প সড়ক নির্মাণ কাজ আটকে আছে মন্ত্রনালয়ে!

  • Last update: Sunday, April 24, 2022

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক ও ঢাকা-সিলেট রেললাইনে প্রায়ই বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘লাউয়াছড়া বাইপাস সড়ক’ নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। তবে প্রকল্পটি আটকে আছে। এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে(সওজ) চিঠি দিয়ে সড়কটি নির্মাণের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছে। সেই সঙ্গে উদ্যানের ভেতরে ঢাকা-সিলেট রেললাইনে ট্রেনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দিয়েছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি ‘সিলেট বিভাগের সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের নামে ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধে এই প্রকল্পে লাউয়াছড়া বাইপাস সড়ক অন্তর্ভুক্ত আছে। বাইপাস সড়কটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নূরজাহান ও মাধবপুর চা-বাগান হয়ে ভানুগাছ-ধলই সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। লাউয়াছড়া বাইপাস সড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রতিবেদনে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এলজিইডি। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। কবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, একনেকে অনুমোদন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ইকবাল আহমদ বলেন, প্রায় চার মাস আগে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আর পাঠানো হয়নি।

Advertisements

এলজিইডির প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ গত ২৪ মার্চ সওজকে একটি চিঠি দিয়েছে। সেখানে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য সওজকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিনই যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বন্য প্রাণীরা সড়ক পারাপারের সময় হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটে। ২০১৬ সালের ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রক্ষায় করণীয় বিষয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে রাতে বিকল্প সড়কপথে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ বিষয়ে সওজকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই সড়কপথে প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০টি বিরল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বন্য প্রাণী মারা পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুতগতির যানবাহন পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে বন্যপ্রাণী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নূরজাহান চা-বাগান-পদ্মপুকুর-ভানুগাছ রাস্তাটির উন্নয়ন করে বিকল্প সড়ক হিসেবে নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিকল্প সড়ক না হওয়া পর্যন্ত যানবাহনের গতি সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটারের নির্দেশিকার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটারের নির্দেশিকা স্থাপনেরও অনুরোধ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ গত ৩ মার্চ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস থেকে এই সড়কে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে যান চলাচলে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

মৌলভীবাজারের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘লাউয়াছড়ার ভেতরে সড়কে বন্য প্রাণী মারা পড়ছে। এ বিষয়ে বন বিভাগকে চিঠি দিতে বলেছিলাম। চিঠির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হবে। যে বিকল্প সড়কের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এলজিইডির। সড়কটি এলজিইডি থেকে নিতে পারলে সার্বিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে।’ নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ গতিসীমা ২০ কিলোমিটারের কিছু নির্দেশিকা লাগানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে স্থায়ী নির্দেশিকা-সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
এদিকে, গত ১ জানুয়ারি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ট্রেনের গতিসীমা ২০ কিলোমিটার রাখার ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। চিঠিতে ভারতের রাজাজি ন্যাশনাল পার্কে ট্রেনের গতিসীমা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় স্বার্থে উদ্যানের ভেতরে ট্রেনের গতিসীমা ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Advertisements

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এলজিইডির বিকল্প সড়ক নির্মাণের কোনো খবর নেই। কবে প্রকল্প পাস হবে অনিশ্চিত। বিকল্প সড়কটি সওজকরতে পারে। আমরা সওজের সঙ্গে বিকল্প সড়কের বিষয়ে আলাপ করেছি। চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া সওজ ও রেলওয়ে বিভাগে যানবাহন ও ট্রেনের গতি ২০ কিলোমিটার করার ব্যবস্থা নিতেও চিঠি দিয়েছি।’

Drop your comments:

Please Share This Post in Your Social Media

আরও বাংলা এক্সপ্রেস সংবাদঃ
© 2022 | Bangla Express | All Rights Reserved
With ❤ by Tech Baksho LLC