আমদানি অব্যাহত থাকলেও চালের দাম কমছে না

টপ নিউজ বাণিজ্য / অর্থনীতি বাংলাদেশ
Share this news with friends:

দেশীয় বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার চাল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে চালভর্তি জাহাজ প্রায় প্রতি মাসেই আসছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে বন্দরে চালবাহী সাতটি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ৮৪ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল রয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

একসঙ্গে নিকট-অতীতে এত চাল আমদানি করা হয়নি বলে জানান তারা। বন্দরে যে সাতটি জাহাজ রয়েছে সেগুলো হলো-এমভি তানবিন-৪৫, এমভি ভিএসজি ড্রিম, এমভি এনহাই ওরি, এমভি ভিটিসি সান, এমভি এসটিসি এথেনা, এমভি তুহিনা ও এমভি সেন্ডবুরি। এমভি ভিটিসি সান ও এমভি এসটিসি এথেনা জাহাজ থেকে বন্দরের জেটিতে চাল খালাস চলছে। তিনটি জাহাজ থেকে চাল খালাস শেষ পর্যায়ে। দুটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।

Advertisements

এদিকে বিপুল আমদানি সত্ত্বেও চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে না। কমছে না দামও। টিআর কাবিখার বিপরীতে চাল সরবরাহ শুরু না হওয়ায় আমদানি করা চাল এখনো গুদামেই রয়ে গেছে। মূলত এ কারণেই দাম কমছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বেশির ভাগ চাল জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ‘এমভি ভিটিসি সান’ ২১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। দুদিন পর খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। তা ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষা করে চালের গুণগত মান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখনো খালাস প্রক্রিয়া চলছে। একইভাবে ২১ সেপ্টেম্বর এমভি এসটিসি এথেনা ৫ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। দুদিন পর নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাব পরীক্ষার পর শনিবার থেকে চাল খালাস শুরু হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর ‘এমভি তুহিনা’ নামের আরেকটি জাহাজ ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজটি থেকে এখনো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। নমুনা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে বলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর এমভি সেন্ডগেওরি নামের আরও একটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছে। জাহাজটিতে চাল রয়েছে ১১ হাজার মেট্রিক টন। এদিকে এমভি তানবিন-৪৫, এমভি ভিএসজি ড্রিম, এমভি এনহাই ওরি থেকে চাল খালাস শেষ পর্যায়ে। এসব জাহাজে চাল আমদানি করা হয়েছে যথাক্রমে ২০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, ৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ও ৯ হাজার মেট্রিক টন।

Advertisements

খাদ্য বিভাগের তথ্যানুসারে, এর আগে পঞ্চম ধাপে ৩৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২৪ ডিসেম্বর ৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, দ্বিতীয় ধাপে ৬ জানুয়ারি ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন, তৃতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি ১৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, চতুর্থ ধাপে ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। আর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ৫ হাজার টনের বেশি চাল আমদানি করা হয়।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত আমদানির পরও চট্টগ্রামে কমছে না চালের দাম। গত কয়েক মাসে কয়েক দফা দাম বেড়েছে। বর্তমানে ২ হাজার টাকার প্রতি বস্তা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। চাল আমদানির পরও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি করা চাল এখনো বাজারে আসেনি। কাবিখা, টিআর ও ভিজিএফ প্রকল্পের কাজের বিপরীতে এসব চাল সরবরাহ করা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত সেসব চাল বাজারে আসেনি। যে কারণে চালের দামেও এর প্রভাব পড়ছে না।

এমভি ড্রাগন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি : এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিম্নমানের হওয়ায় ৪ আগস্ট এমভি ড্রাগন থেকে চাল খালাস বন্ধ করে দেন চট্টগ্রামের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখেন জাহাজটিতে খাওয়ার অনুপযোগী চাল রয়েছে। এরপর জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুই মাস ধরে জাহাজটি বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ২২ জুলাই ভারত থেকে ১৯ হাজার ২০০ টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি ড্রাগন’ নামের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এই চাল সরবরাহ করেছে ভারতের ‘ট্রিটন লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়ার পর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাল খালাসের নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। ১ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি (একজন সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমদানি করা চালের নমুনা সংগ্রহ করেন। তা ল্যাবে পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষা করে চালের গুণগত মান ভালো ও খাওয়ার উপযোগী বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩ আগস্ট জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫শ টন চাল খালাস করা হয়। পরে খালাস বন্ধ রাখা হয়।

চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ কার্যালয়ের উপনিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত যুগান্তরকে জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এখন দুই জাহাজে খালাস চলছে। আরও দুটি জাহাজ বহির্নোঙরে রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর খালাস শুরু হবে। তিনি এমভি ড্রাগন সম্পর্কে বলেন, জাহাজটি এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে।

Advertisements
Drop your comments: