সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা ৪১ জন প্রবাসী বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে (সিআইপি) বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ‘মিট দ্য সিআইপি’স’ (Meet the CIP’s) শিরোনামে এই জমকালো মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের কল্যাণে মরদেহ বিনামূল্যে দেশে পাঠানোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রবাসীরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাচিত ৮৬ জন প্রবাসী সিআইপি-র মধ্যে ৪১ জনই সংযুক্ত আরব আমিরাতের। এর মধ্যে ৪০ জন বৈধ চ্যানেলে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী এবং একজন বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে এই প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমদ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তির সংবাদ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ দূতাবাস বহন করবে। এর আগে এক্ষেত্রে আংশিক সহায়তা প্রদান করা হতো। এছাড়া রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ বা ‘স্যুভেনিয়ার বুক’ প্রকাশ করা হবে, যেখানে ৪১ জন সিআইপি এবং আরও ৮২ জন পরিশ্রমী প্রবাসীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প স্থান পাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিআইপিরা তাদের ব্যক্তিগত পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকা, বিমানবন্দরে সেবার মান বৃদ্ধি এবং দূতাবাস ও কনসুলেটের সেবা আরও সহজ করার দাবি জানান। তারা বিদেশের মাটিতে নিজেদের কাজের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক জোনে বিনিয়োগের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দুবাইয়ের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান সিআইপিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা কেবল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেননি, বরং দেশকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। দূতাবাসের ডেপুটি মিশন প্রধান শাহনাজ আক্তার রানু সিআইপিদের ‘রাষ্ট্রের হৃদয়’ বলে অভিহিত করেন। দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ উল্লাহ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সিআইপি (CIP) পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন। তারা বিদেশের মাটিতে এ ধরনের সম্মাননা ও সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জনতা ব্যাংকের সিইও এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক।
সম্মাননা ও ঐতিহ্য অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সিআইপিদের হাতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক, ফুলের তোড়া ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। সবশেষে ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবার দিয়ে নৈশভোজ এবং একটি গ্রুপ ফটো সেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— মোহাম্মদ রুবেল, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ খালেদ, আবুল হাসেম, নিজাম উদ্দিন, নূর নবী, ওসমান গণি, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, সেলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ জাফর, মো. ওসমান আলী, ফরিদুল আলম, হাসান মোরশেদসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সফল ব্যবসায়ীগণ। আমদানিকারক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন মোহাম্মদ জুলফিকার ওসমান।
