বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বললেন হাসনাত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল খানকে করা হয়েছে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। এছাড়া কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বিএনপি নেতাদের সন্তানেরা। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাপের দোয়া বোর্ডে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের বিকালের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে দখল করা হয়েছে। বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটা নাই। এটা বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বায়ত্তশাসিত না করা হলে তাহলে আরেকটি বাপের দোয়া কমিশন দেখতে পাবো।”

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়াদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে যে বিলটা আনা হয়েছে, সেই বিলে যদি আমরা দেখি এখানে কমিশন বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের দুই এর ঘ-তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহারের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তি স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে, এটাকে একভাবে দেখা হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশে যেই কার্যাবলিগুলো সংগঠিত হয়েছে, সেটাকে একভাবে দেখা হবে। 

“সমস্যার জায়গাটা হচ্ছে, সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের সংগঠিত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটাকে কে ডিফাইন করবে? এই আইন অনুযায়ী মানবাধিকার কমিশন সেটাকে কিন্তু ডিফাইন করবে। অর্থাৎ, এই ইনডেমনিটিটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরে নির্ভর করবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ সেটা কিন্তু ইতোমধ্যে ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন যদি ২০০৯ সালের অনুযায়ী যদি চলে, তাহলে সেটা কিন্তু পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা মানবাধিকার কমিশন। যেই মানবাধিকার কমিশন বিরোধী দল ও মতকে দমনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভিকটিম ব্লেমিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যেই কমিশনে গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে।”

এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “কমিশনকে যদি আমরা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি এবং তাকেই যদি আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কার্যক্রমগুলোকে বিচারের এবং নিরীক্ষণের দায়িত্ব দেয়, সেক্ষেত্রে এই নিরীক্ষণ কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

মানবাধিকার কমিশনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যদি কমিশনকে আমরা একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, তাদের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ধরনের অনুসন্ধান আমরা কতটা পাবো সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। সেই জায়গা থেকে এই বিলটিকে যদি আমরা বাস্তবায়ন ও ফাংশনাল করতে চাই, তাহলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়িত্বশাসিত করতে হবে।”
 
তিনি বলেন, “যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছে, তারাই এটাকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছে। কমিশন যদি অটোনোমাস হয়ে যায় তাহলে এটার জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে এই অজুহাতে। যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্ন করা হচ্ছে, কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধীদল দমন কমিশন করা হবে না, এটার প্রতি কিন্তু আমাদের আস্থা নাই।”

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *