জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ২০০৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকারী একজন সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপককে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে বসানোর জোর তৎপরতা চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিজেকে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিমানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার নিয়োগের আবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে তার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব বোর্ডে না আনার সুপারিশ করেছিল। তবে সম্প্রতি আবারও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তাকে নিয়ে আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সংস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণকারী একজন সাবেক কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিমানের প্রশাসনিক কাঠামো ও কমান্ড চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানে যারা পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন, অভিজ্ঞতায় তারা ওই ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি জ্যেষ্ঠ। এমন পরিস্থিতিতে একজন সাবেক অধস্তন কর্মকর্তাকে তাদের ওপর বসানো হলে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এছাড়া ২০০৭ সালে যারা স্বেচ্ছায় অবসর (VRS) নিয়েছিলেন, তাদের একজনকে পুনরায় উচ্চপদে ফিরিয়ে আনা হলে প্রায় ২২০০ থেকে ২৫০০ জন সাবেক কর্মী একই ধরনের সুবিধা দাবি করতে পারেন। এর ফলে বিমানের ওপর যে বিশাল আর্থিক বোঝা চাপবে, তা সংস্থার অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।
৫ই আগস্টের পর দেশে ফিরে আসা এই ব্যক্তিকে ঘিরে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তা বিমানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে স্থবির করে দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা উপেক্ষা করে এমন বিতর্কিত নিয়োগ প্রচেষ্টা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি শুধু বিমানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তুলছে।
