আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) ফরিদপুরঃ ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে ভুল প্রার্থী নির্বাচন ও স্থানীয় পর্যায়ের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন তৃণমূলের একাংশ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিশেষ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বড় ব্যবধানে ভোটের ফল ঘিরে নানা বিশ্লেষণ সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রায় ২৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি ভোট এসেছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা থেকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ফলাফলের পেছনে স্থানীয় অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে।
তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আলফাডাঙ্গায় কয়েকটি মামলায় অসংখ্য ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সর্বশেষ একটি মামলায় ১৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এসব মামলাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও পুলিশি অভিযানের আতঙ্কে অনেকে ঘরছাড়া ছিলেন। নির্বাচনের দুই দিন আগেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশি তৎপরতার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার প্রভাব ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র একাংশের দাবি, সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন এবং সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে না পারাই পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তাদের মতে, তৃণমূলের ক্ষোভকে সময়মতো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের পর আলফাডাঙ্গায় কয়েকজন সাধারণ ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মুখে ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’ শব্দটি শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। যদিও নির্বাচনের ফল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো অভিযোগ বা পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুর-১ আসনের ফলাফল প্রমাণ করেছে—স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীর ভাবমূর্তি এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ নির্ধারণ করে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা।
