প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় সকাল নয়টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। কয়েক দফায় পিছিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার পরও প্রথমবারের ন্যায় ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা। ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১৭৮টি বুথ।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৯০ জন।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৮টার দিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লাইন ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার, ভোট বাক্স ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীরা কোনো শঙ্কা ছাড়া ভোট দিচ্ছেন এটাই চেয়েছিলাম আমরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবার দুই দশক পরে এ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্ব সংকট কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর এটিই প্রথম জকসু নির্বাচন।
