কুচকাওয়াজে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের সাফল্য

বাসুদেব বিশ্বাস, বান্দরবান: কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের দুই যুগের ধারাবাহিক সাফল্য ২০২৬ সালে পেয়েছে নতুন গতি। স্বাধীনতা দিবসের শিশু-কিশোর সমাবেশে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ- প্রতিটি স্তরেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

জেলা স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম-এ বিভাগীয় পর্যায়ের কুচকাওয়াজে দৃষ্টিনন্দন প্যারেড প্রদর্শনের জন্যে বরাবরের মতো এবারও কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় বিশেষ সম্মাননা। ২৯ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর একটি চৌকস প্যারেড দলের পরিবেশনায় চমৎকৃত হন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দর্শনার্থীরা।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্টেডিয়ামে চারটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রতিটিতেই শীর্ষস্থান জিতে চমক সৃষ্টি করেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেয় ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট প্যারেড ছোট ও বড় দল (উভয় দলে ৩২ জন), ২৩ সদস্যের ব্যান্ড দল এবং ১৪৬ জন খুদে শিশুর সমন্বয়ে গঠিত সুসজ্জিত ডিসপ্লে দল।

কোয়ান্টামের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ নৈপুণ্যে বিমোহিত হয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা তাদের জানান উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি আর বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মো.আব্দুর রহমান।

উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। প্রতি বছরের মতো প্যারেড ও ডিসপ্লে উভয় ইভেন্টেই অপরাজেয় থেকে কুড়িয়ে নেয় মাঠ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা মুগ্ধ দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত করতালি। প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান কামাল ও তার সহধর্মিণী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবদুর রব, লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো.আমির হোসেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০১সালে শিক্ষালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২২ জাতিগোষ্ঠির আড়াই হাজারের বেশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী এখানে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে সম্পূর্ণ নিখরচায়, যা পার্বত্য বান্দরবান তথা সারা বাংলাদেশে সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন লেখাপড়া ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত মেডিটেশন, ইয়োগা ও শুদ্ধাচার চর্চা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মেধা বিকাশের অপূর্ব সুযোগ। চলতি বছরে উচ্চশিক্ষার সুযোগপ্রাপ্ত ৩৮ জন সহ বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে।

Facebook Comments Box
Share:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *